মোহনগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক শহীদ ইকবাল প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রেবেকা মমিন বেশ কয়েক বছর ধরে বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি তাকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আজ ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
রেবেকা মমিনের গ্রামের বাড়ি মোহনগঞ্জের পৌরসভার কাজিয়াহাটিতে। তিনি এক কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
রেবেকা মমিন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য প্রয়াত খাদ্যমন্ত্রী আবদুল মমিনের স্ত্রী। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে ষাটের দশকে রাজনীতিতে আসা রেবেকা বিভিন্ন সময়ে দলের অভ্যন্তরে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি নেত্রকোনা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য।২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি । পরবর্তীতে তিনি এ আসন থেকে পরপর তিনবার নির্বাচিত হন। তিনি মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যানও ছিলেন।
স্থানীয়দের কাছে একজন সৎ, আন্তরিক ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত রেবেকা মমিন সাদাসিধে জীবনযাপনে অভ্যস্ত। সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকে তার সম্পদের পরিমাণ কমেছে। দুই বছর আগে, তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য একটি মডেল গ্রাম প্রতিষ্ঠার জন্য মোহনগঞ্জের কাজিয়াহাটি মৌজায় তার পারিবারিক সম্পত্তি থেকে ১ একর ৬৪ শতকজমি দান করেছিলেন।
মোহনগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নেতা শহীদ ইকবাল জানান, রেবেকা মমিন এমপি হওয়ার পর অনেক আগেই তার পরিবার এভাবে অনুদান দিয়েছে এবং সে সব প্রতিকূলতার ঊর্ধ্বে। তার কোনো রকম লোভ - লালসা ছিলো না।

0 Comments:
Post a Comment