কারাগারে ঝাড়ুদারের কাজ করতে হয় পাপিয়াকে | Sothik News | সঠিক নিউজ


ডেস্ক রিপোর্টঃ
বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়াকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে তাকে কুমিল্লায় স্থানান্তর করা হয়।মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান জেল সুপার আবদুল্লাহ আল-মামুন এই ঘোষণা দেন।

কারা কর্মকর্তারা জানান, শামীমা নূর পাপিয়া কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে ঝাড়ুদার হিসেবে কাজ করতে হবে। এই কারাগারে দুটি কাজ রয়েছে: পরিষ্কার করা এবং হাতের কাজ। কারাগারের প্রবিধানে নারী বন্দীদের কাজ করতে হয়। তবে প্রথমে সবাই নকশিকাঁথা করতে পারেন না। তাই আগে ঝাড়ু দেওয়ার কাজ করতে হবে। তাই পাপিয়াকে  পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে হয়।

কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শামীমা নূর পাপিয়াকে প্রায় ৪০ মাস ধরে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। একজন 27 বছর সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসাবে, তিনি কারাগারের নিয়ম অনুসারে একজন "রাইটার" হিসেবে কাজ করতেন। সম্প্রতি রুনা লায়লা নামে এক পতিতাকে নির্যাতন করেন পাপিয়া। তার কাছ থেকে টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ ওঠে।

এ জন্যে কারাগারে সমঝোতা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বন্দি ও দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। এ বিষয়ে রুনার ছোট ভাই গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। পরে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ কারণে পাপিয়াকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়।

জেল সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, পাপিয়াকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে কুমিল্লায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুরুষদের জন্য কুমিল্লা কারাগার। এই কারাগারের একটি ছোট অংশে মহিলা কারাগারের বন্দীদের রাখা হয়। শামীমা নূর পাপিয়াকে সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গে একটি সাধারণ ওয়ার্ডে বন্দী করে রাখা হয়। তিনি চাইলেই পুরো কারাগারে ঘুরতে পারবেন না।

আবদুল্লাহ মামুন আরও বলেন, পাপিয়া অন্যান্য বন্দীদের মতো এখানেই থাকবেন। জেল কোডে দোষী সাব্যস্ত বন্দীদের কারাগারে কাজ করতে হবে। কুমিল্লা কারাগারে নারী বন্দীদের জন্য পরিষ্কার ও কাথা সেলাই এই দুটি কাজ আছে। এই দুটি কাজের একটি অবশ্যই একজন মহিলা বন্দীকে করতে হবে।

২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মফিজুর রহমান ও পাপিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। অস্ত্র আইনের মামলায় পাপিয়া ও তার স্বামী কে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

0 Comments:

Post a Comment