শুক্রবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকের দুই দিনের কর্মসূচী ঘোষণা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী ৩০ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে তৃণমূল পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। আর ২১ আগস্ট উত্তরের জেলা রংপুরে কর্মসূচি পালন করা হবে।
তিনি বলেন, আমাদের বিপরীতে যারা অবস্থান করছে তারা সাম্প্রদায়িক অপশক্তি, পাকিস্তান-আফগানিস্তানের বন্ধু, জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক। ওরা ষড়যন্ত্রকারী, ওদের তৎপরতার কাছে কি সারেন্ডার করব? সারেন্ডার করে এ দেশের মাটি, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব, স্বাধীনতা, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাজনৈতিক বিজয়, উন্নয়ন অভিযাত্রা কি বিসর্জন দেব?
কূটনীতিক ও ইইউ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন: "আমি সবার সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের কেউ বলেনি যে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার দরকার, সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে, শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে তারা (বিএনপি) পদত্যাগ করতে বলে। তাহলে আলোচনাটা করবে কার সঙ্গে? তখন (বিদেশিরা) আর কিছু বলেনি।’
সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, একদফা ঘোষণার পর বিএনপি সারাদেশে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড শুরু করেছে। তিনি বলেন, বিএনপি সারাদেশে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিহত হচ্ছেন। আর বিএনপি মিথ্যাচার করে জাতিকে বিভ্রান্ত করে। মফস্বলে যে সহিংসতা সংঘটিত হয়েছে তা পরিকল্পিত। রাজনৈতিক অপশক্তির মালিক বিএনপি বিচ্ছিন্ন ঘটনার মাধ্যমে বিদেশীদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে। নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে তারা।
ঢাকা- ১৭ আসনের উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলমের ওপর হামলা প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, বনানীর ঘটনার জন্য কারা দায়ী। আমরা কেন এটা ঘটাব? আমরা প্রার্থীদের প্রার্থী হিসেবে দেখি। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। এ নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রার্থী যেই হোক সরকার তাকে প্রার্থী বলেই মনে করে। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত দশজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন: আমি ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে বললাম, আপনি এই শহরে কতদিন ধরে আছেন? তিনি বলেন, ৩ মাস। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলামঃ আপনি কতটা বিশৃঙ্খলা দেখেছেন? আসলে বিএনপি নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে ।
বিশ্ব রাজনীতিতে ‘অদ্ভুত অদ্ভুত ঘটনা ঘটছে’ মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, দফায় দফায় বিদেশিরা আসছে, বিএনপিও দফা দিচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে কিছু ঘটনা ঘটে, কিন্তু সেরকম ঘটনা কি তাদের (যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন) দেশে ঘটে না? বিশ্ব রাজনীতিতে গভীর সংকট চলছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে নানা রকম মোড় নিচ্ছে বিশ্বরাজনীতি। এখন এ অবস্থায় দেখছি বিশ্বে নেতৃস্থানীয় দেশগুলোর মাথাব্যথা বাংলাদেশ। আমাদের এখানে কী হবে সেটা নিয়ে তাদের আগ্রহ বেশি!
সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের বোর্ড সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মুফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কাজী জাফরুজ্জাহ, ড. আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাছিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ,অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

0 Comments:
Post a Comment