২য় শ্রেণীর শিক্ষাথী নিহত তাবাসসুম ধুনট উপজেলার নছরতপুর গ্রামের বেলাল হোসেন খোকনের মেয়ে। শনিবার দুপুরে পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার জানান, আসামী বাপ্পীর পরিবারের সাথে শিশু তাবাসসুমের বাবার সাথে পারিবারিক দ্বন্দ চলে আসছে। এই দ্বন্দের রেশ ধরে তাবাসসুমকে হত্যা করে প্রতিশোধ নেয়ার পরিকল্পনা করে বাপ্পী। গত ১৪ ডিসেম্বর নছরতপুর গ্রামে ইসলামী জালসা চলছিল। সেখানে তাবাসসুম তার দাদা-দাদী ও দুই ফুফুর সাথে জালসায় যাওয়ার পর অন্য শিশুদের সাথে পাশের দোকানে বেলুন কিনতে যায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী বাপ্পী রাত ৯ টার দিকে জালসার পাশের দোকান থেকে বাদাম কিনে দেয়ার লোভ দেখিয়ে তাবাসসুমকে ফুসলিয়ে হাজী কাজেম জবেদা টেকনিক্যাল কলেজে নিয়ে যায়। সেখানে বাপ্পী, কামাল, শামীম ও লাভলু তাবাসসুমের মুখ চেপে ধরে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে নিস্তেজ হয়ে পড়লে বাপ্পি গলা টিপে তাবাসসুমকে হত্যা করে। পরে কাটিং প্লাস দিয়ে হাতের আংগুল কাটে, যাতে সবাই মনে করে কোন জন্তু কমড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। এর পর বাপ্পি তাবাসসুমের লাশ কাধে করে বাদশার বাড়ির পাশেরে বাঁশ ঝাড়ে ফেলে রেখে যায়, যাতে বাদশার ছেলে রাতুল(১৬) কে সবাই সন্দেহ করে। শেষে বাপ্পী বাড়িতে চলে গেলে বাকি তিনজন আসামি জালসায় গিয়ে ভলেন্টিয়ারের দায়িত্ব পালন করে।
পুলিশ সুপার আরো জানান, তাবাসসুম বাসায় ফিরে না আসায় তার পরিবারেরর সবাই তাকে খুঁজতে থাকে। এক পর্যায়ে রাত দেড়টার দিকে লোকজন তাবাসসুমের দেহ বাশ ঝাড়ে পড়ে থাকতে দেখে দুৃত উদ্ধার করে ধুনট স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। এসময় তাবাসসুমের যৌনাঙ্গ দিযে রক্ত ঝরছিন এবং বুকে ও গালে কামড়ের দাগ ছিল।
পরে ১৫ ডিসেম্বর তাবাসসুমের বাবা খোকন বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় মামলা দায়ের করেন। তারপরেই পুলিশ মাঠে নামে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আব্দুর রশিদের তত্তাবধানে এবং শেরপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম নিরলসভাবে হত্যার রহস্যের তথ্য উদঘাটন করে। পরে ২৫ ডিসেম্বর রাতে আসামীদের গ্রেফতারপূর্বক ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তাবাসসুমকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করে।
আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, আসামীদের আদালতে প্রেরণ করে ৮ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে।

0 Comments:
Post a Comment