শজিমেকে ডেঙ্গু রোগীদের মশারি ছাড়াই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে | Sothik News | সঠিক নিউজ


ডেস্ক রিপোর্টঃ
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) ও হাসপাতালে অন্যান্য সাধারণ রোগীদের সঙ্গে মেডিকেল বিভাগের একটি কক্ষে ৩২ জন ডেঙ্গু রোগীকে (পুরুষ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তারা সবাই মশারি ছাড়াই থাকছেন।

রোগীদের অভিযোগ, তাদের কাউকেই হাসপাতাল থেকে মশারি দেওয়া হয়নি। চার থেকে পাঁচজন রোগী বাড়ি থেকে মশারি নিয়ে এলেও গরমের অজুহাতে বেডেই গুটিয়ে রেখে দিয়েছেন। ফলে আক্রান্তদের থেকে মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ে কি না, তা নিয়ে আতঙ্কে আছেন অন্য রোগী ও স্বজনরা।

শুক্রবার (১১ আগস্ট) হাসপাতালের মেডিকেল বিভাগে অনেক রোগী দেখা গেছে। সেখানে চিকিৎসাধীন ছাত্র সাদমান খান। তার মা জাকিয়া সুলতানা নওগাঁ জেলা পরিষদের সদস্য।
তিনি বলেন, চার দিন আগে আমার ছেলে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।বহুবার মশারি চেয়েও না পেয়ে বাড়ি থেকেই নিয়ে এসেছি। তবে বেডের ওপেরর ফ্যানের ক্যাপাসিটর নষ্ট। গরমে এমনিতেই থাকা যায় না, তাই বাধ্য হয়ে মশারি গুটিয়ে রেখেছি।

হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগী বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ গ্রামের বাসিন্দা এরফান আলী বলেন, ‘তিনদিন হচ্ছে ভর্তি আছি। এখনো হাসপাতাল থেকে মশারি দেয়নি। স্ত্রী এখানে আমার সঙ্গে আছে। সেও আক্রান্ত হয় কি না ভয় হচ্ছে।’

একই উপজেলার রামেশ্বাপুর গ্রামের জাকারিয়া বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে মশারি চেয়েও পাইনি। বাধ্য হয়ে মশারি ছাড়াই চিকিৎসা নিচ্ছি। হাসপাতালের বাথরুম, দরজা-জানালা অনেক বেশি নোংরা। এতে আরও অসুস্থ হয়ে যাবো মনে হচ্ছে।’

মেডিসিন বিভাগে বারান্দায় একই বেডে পেটে সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন কাহালু পৌর এলাকার বাসিন্দা বৃদ্ধ সেলিম মিয়া। তার সঙ্গে থাকা শ্যালক ইয়াকুব আলী বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগীদের কারোর মশারি নেই। আমরা সবাই এখানে আতঙ্কে আছি।’

শজিমেক হাসপাতালে পুরুষ মেডিসিন বিভাগের বিপরীতে নারীদের জন্য আলাদা মেডিসিন বিভাগ। সেখানেও অন্যান্য রোগীদের পাশেই আলাদা এককক্ষে আটজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে তাদের মশারি সরবরাহ করা হলেও গরমের অজুহাতে তারা গুটিয়ে রেখেছেন। ফলে সেখানেও ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্কে আছেন অন্যান্য রোগী ও স্বজনরা।

চিকিৎসক ও নার্সরা বলছেন, বারবার অনুরোধ করেও রোগীরা মশারি টানানোর বিষয়ে উদাসীন। অন্য রোগীরা জানান, ডেঙ্গু রোগীরা রাতে শুধু মশারি দিয়ে ঘুমায়।

বগুড়ার শাজানপুর উপজেলার বাসিন্দা জাহানারা বেগম বলেন, সংক্রমণের পর সাত দিন হাসপাতালে ছিলাম, এখন সুস্থ আছি, হাসপাতালে মশারি দিয়েছে, কিন্তু দিনের বেলা গরমের জন্য ব্যবহার করি না। . "

বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় শজিমেক হাসপাতালে ১০ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ সময় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ছয়জন। বর্তমানে ৪০ জন ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডঃ মো. আবদুল ওয়াদুদ বলেন, পুরুষ রোগীদের মশারি দেওয়া হয় না এমন অভিযোগ সত্য নয়। মশারি ব্যবহার করতে হবে। তাদের সকলেই মশারি দিয়ে সজ্জিত। কিন্তু রোগীরা তা জানেন না।

তিনি বলেন, বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও মশারি ব্যবহার করা হচ্ছে না। এই মামলাটি আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ ছাড়া ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা কোনো বিভাগ না থাকায় রোগীদের ওপর বাড়তি কোনো বোঝা নেই। তবে তার মতে, এ বিষয়ে প্রস্তুতি চলছে।

0 Comments:

Post a Comment