যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর: আওয়ামী লীগ নেতা | Sothik News | সঠিক নিউজ


ডেস্ক রিপোর্টঃ
নওগাঁর রাণীনগরে তিন লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে দ্বিতীয় স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মজিদ আকন্দের বিরুদ্ধে। স্ত্রীকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন । 

ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ১৬ জুলাই নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে নওগাঁ আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন।

আব্দুল মজিদ আকন্দ উপজেলার একডালা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
অভিযোগে বলা হয়, আওয়ামী লীগ নেতা আকন্দ ভুক্তভোহীর ফুফতো ভাই। গত বছর ভুক্তভোগী আকন্দের বাজারে কাপড় সেলাইয়ের একটি দোকান ভাড়া নিয়েছিলেন। কয়েকদিন পর, স্থানীয় কিছু বখাঠে 
ভুক্তভোগীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে হয়রানি করে। এরপর ভুক্তভোগী আব্দুল মজিদ আকন্দকে বিষয়টি জানান। এরপর আওয়ামী লীগের নেতা আকন্দ ভুক্তভোগীকে ফুসলিয়ে বিয়ে করতে বলে। পরে কাজীর মাধ্যমে উভয় পক্ষের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়।

ভুক্তভোগী শিওলী বিবি জানান, মজিদ চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি তারিখে শরিয়ত মোতাবেগ এক লাখ টাকা দেন্মোহর নির্ধারণ করে আমাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর মজিদ বিভিন্ন কৌশলে আমার প্রায় ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এরপর মজিদ তার প্রথম স্ত্রী, মেয়ে, জামাই, ভাই ও ভাগ্নের জন্য আমার কাছে আরও তিন লাখ টাকা যৌতুক চায়। আমি টাকা দিতে অস্বীকার করায় আকন্দ আমাকে নির্যাতন করতে থাকে।
আকন্দ বলে যে সে আমার সাথে আর সংসার করবে না। চলতি মাসের ৫ তারিখ বিকেলে মজিদসহ অন্যরা আমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তারপর কোনোমতে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে বেঁচে যান তিনি।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পর মজিদ গত ৯ জুলাই গোপনে আমার বাড়িতে ডিভোর্স লেটার পাঠায়। আমার মা ও অন্যরা আমাকে নিয়ে মজিদের বাসায় গিয়েছিল। পরে ১২ জুলাই সন্ধ্যায় মজিদসহ অন্যদের সঙ্গে বাবার বাড়িতে বসে পরিবারের লোকজনকে বলি, যৌতুক ছাড়া মজিদ আমাকে নেবে না।

একপর্যায়ে ৩ লাখ টাকা যৌতুক নিয়ে কথা কাটাকাটি হলে মজিদসহ অন্যরা আমাকে লাঠিপেটা করে। আমি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা আমাকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ মাসের ১৫ তারিখে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হওয়ার পর এবং ঘটনাস্থলেই সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তিনি পুলিশ বিভাগে বিবৃতি দিয়ে আবেদন করলেও পুলিশ মামলাটি গ্রহণ করেনি। বাধ্য হয়ে ১৬ তারিখে মজিদকে প্রধান আসামী করে ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করি। অমানবিক নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

শিউলির মা জিন্নাতুন বেওয়া বলেন, মজিদ আকন্দ বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আমার মেয়েকে বিয়ে করতে রাজি করান। মজিদ অকারণে আমার মেয়েকে নির্যাতন করে। এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আব্দুল মজিদ আকন্দ তার স্ত্রীকে আঘাত করার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, যৌতুকের জন্য শিউলিকে আঘাত করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি তাকে বিয়ে করেছি। আমি তার সাথে আর থাকতে চাই না।

এ ব্যাপারে রাণীনগর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, কেউ থানায় অভিযোগ করতে বা মামলা করতে আসেনি এবং ঘটনা সম্পর্কে অবগত নই। মামলাটি আদালতে গেলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

0 Comments:

Post a Comment