আহমেদ সাব্বির রোমিওঃ জীবনের বাস্তব নিয়ে গান গেয়ে আলোচিত কন্ঠ শিল্পী নচিকেতা। জীবন্ত কিংবদন্তি এই সংগীতশিল্পীর পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের বরিশালের পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলায়। আসছে সেপ্টেম্বর মাসের ৯ তারিখ এই গুনী শিল্পীর জন্ম দিন। শুধু ভারত - বাংলাদেশেই নয় গুনী এই সংগীতশিল্পীর কদর সারা বিশ্ব জুড়ে।
নচিকেতা-নামটাই একটা আবেগ। একটা আস্ত জ্যঁর। তিনি শুধু গায়ক নন, দার্শনিকও। নচিকেতার জীবনমুখী গানের প্রতিটা শব্দই তার প্রমাণ। গত ২৮ বছরের মিউজিক কেরিয়ারে আটশোরও বেশি গান গেয়েছেন। তাঁর স্টেজ শো আগুন ঝড়িয়েছে গ্রামবাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শহুরে মাঠ। ভারত থেকে সারাবিশ্বে। এবার সেই গায়কের নামেই একটা আস্ত প্রেক্ষাগৃহ তৈরি হচ্ছে। এই খবর জানার পরে গণমাধ্যমকর্মীরা তার সাথে যোগাযোগ করলে আপ্লুত গায়কের মন্তব্য, “এটা আসলে মানুষের ভালবাসা।”
দিন কয়েক আগেই কোলকাতার হাওড়ায় গিয়েছিলেন এক কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে। সেই কলেজের কর্তৃপক্ষই প্রস্তাব দেন যে, তাঁরা নচিকেতার নামে একটা পূর্ণাঙ্গ অডিটোরিয়াম তৈরি করতে চান। গায়কের নানা মেজাজের ছবি ও গানের লাইনে সাজানো হবে সেই প্রেক্ষাগৃহ। জীবদ্দশায় বাংলার কোনও গায়ককে এমন অনন্য সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে বলে মনে পড়ে না!
শহরের বুকে নচিকেতার নামে রমরমিয়ে চলছে দু-দুটো টি-স্টল। যেগুলো নবীনপ্রজন্মের কাছে ‘আড্ডা-জয়েন্ট’ বললেও অত্যুক্তি হয় না। অনেকেই হয়তো ব্যস্ত জীবনে পথচলতি রাস্তায় সেখানকার ভাঁড়ে চুমুক দেন নস্ট্যালজিয়াকে চাগাড় দিতে। বছর খানেক আগে এই হাওড়াতেই গায়কের নামে জমজমাট এক মেলাও হয়েছিল। এবার সেই জেলাতেই নচিকেতার নামে পুরোদস্তুর অডিটোরিয়াম তৈরি করতে চলেছে অগ্রগতি নামে এক সংস্থা। যার নাম হবে ‘নচিকেতা-মঞ্চ’। আটশোটা আসন থাকবে প্রাথমিক পর্যায়ে। ভবিষ্যতে সেই আসন সংখ্যা বাড়তে পারে। এমনটাই পরিকল্পনা নির্মাতাদের।
নচিকেতার মন্তব্য, “এটা জনগনের ভালবাসা। সরকার থেকে নয়, মানুষ-ই ভালবেসে এই উদ্যোগটা নিয়েছে। ভাল তো লাগছেই। ওপেনিং শো-টা হয়তো আমিই করব।”

0 Comments:
Post a Comment