কঠোর লকডাউন উপেক্ষা করে স্যুটিং | টিভি নাটকের ১২ জন আটক প্রসঙ্গে পরিচালক যা বললেন | Sothik News

আহমেদ সাব্বির রোমিওঃ কঠোর লকডাউন উপেক্ষা করে স্বাস্থ্যবিধি ভেঙে রাস্তায় শুটিং।  যে কারণে অবশেষে পরিচালক নাসিরউদ্দিন মাসুদসহ তার নাটকের শুটিং ইউনিটের ১২ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানার গন্ডিতে পা রাখতে হলো। বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিচালক আউটডোর লোকেশানে আর স্যুটিং করবেন না এমন প্রতিশ্রুতি দিলে পরিচালকসহ অন্যদেরকে ছেড়ে দিয়েছে খিলগাঁও থানা পুলিশ।

খিলগাঁও থানার ওসি ফারুকুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে খিলগাঁওয়ের সি ব্লকে শুটিংয়ের সময় ভিড় হওয়ায় পরিচালকসহ ইউনিটের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়।

ওসি বলেন, স্যুটিং চলাকালীন সময় আশেপাশে অনেক লোকজনের সমাগম ঘটে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। অনুমতি আছে বলে দাবি করলেও অনুমতির কোনো কাগজপত্র তারা দেখাতে পারেননি। 

বামদিক থেকে পরিচালক নাসিরউদ্দিন মাসুদ, খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুকুল আলম
ও ডিরেক্টরস গিল্ড এর সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সাগর

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যাদের থানায় নেওয়া হয়েছিল তাদের মধ্যে পরিচালক নাসিরউদ্দিন মাসুদ নাটকের চিত্রগ্রাহক ও কলাকুশলীসহ ওই নাটকের স্যুটিং এর সাথে জড়িত মোট ১২ জন সদস্য  ছিলেন।

এ ব্যাপারে ডিরেক্টরস গিল্ডের সাধারন সম্পাদক এস. এম কামরুজ্জামান সাগর এই প্রতিবেদককে মুঠোফোনে বলেন, থানায় আটকের খবর পাওয়ার পরপরই গিল্ডের পক্ষ থেকে আমি তড়িৎ গতিতে পদক্ষেপ নেই। পুলিশ প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করি।

গিল্ডের এ নেতা বলেন, নাটকের সংগঠনগুলোর জোট এফটিপিও এর পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল- স্বাস্থ্যবিধি মেনে হলেও যেন কেউ রাস্তা-ঘাটে শুটিং না করে। বিশেষ প্রয়োজনে ঘরোয়া পরিসরে নাটকের চিত্রধারণের কাজ করে। কিন্তু আমাদের মধ্যে কেউ কেউ তা মানছেন না। এই অবস্থা চলতে থাকলে বৃহত্তর স্বার্থে শুটিং বন্ধ করা ছাড়া আর অন্য কোনো উপায় থাকবে না।

এদিকে পুলিশ কাগজপত্র না পাওয়ার কথা বললেও পরিচালক নাসিরউদ্দিন মাসুদ দাবি করেছেন, শুটিংয়ের অনুমতি তাদের ছিল। তিনি বলেন,আমাদের পারমিশন নেওয়া ছিল। থানায় গিয়ে কথাও বলা ছিল।

নাসিরউদ্দন মাসুদ পরিচালিত আদালত নাটকের একটি দৃশ্য

এই প্রতিবেদকের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার সময় প্রতিবেদক যখন তার কাছে জানতে চান, সংশ্লিষ্ট  থানা এলাকায় স্যুটিং করার অনুমতি চেয়ে লিখিত ভাবে জমা দেওয়া কোন অনুমতির রিসিভ কপি তার কাছে আছে কি না? তখন তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন এমন কোন রিসিভ কপি তার কাছে নেই।

করোনার এই কঠিন লকডাউনে যেখানে গড়ে প্রতি দিন দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে ঠিক সেই সময় আউটডোরে স্যুটিং করাটা ঝুঁকিপূর্ন নয় কি? এমন প্রশ্নের জবাবে পরিচালক মাসুূদ এই প্রতিবেদককে উল্টো প্রশ্ন করে বলেন, গার্মেন্টসে যখন  শত শত  মানুষ করোনা মহামারীর মাঝে কাজ করেন তখন কতটুকু সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকে?  আর শুধু মাত্র  ইনডোরে স্যুটিং করে কোন ভাবেই  খন্ড সহ তিন বা সাত পর্বের নাটক শেষ করা সম্ভব নয়। যদি কেউ করতে পারেন আমি টেলিভিশনই ছেড়ে দেবো।

তিনি আরো বলেন, থানা থেকে তলব করার পরে ডিরেক্টরস গিল্ডের কোন নেতা থানায় আমাদের সাথে কোন ধরনের যোগাযোগ করেন নি। আমি নিজে থানায় গিয়ে সমস্যার সমাধান করি। কোন মুচলেকা নয়, একটি  আন্ডার টেকেন দিয়ে কলাকৌশলী এবং স্যুটিং সামগ্রী ফেরত নিয়ে আসি। 

উল্লেখ্য, এসএ টিভির জন্য নির্মিত ঈদের সাত পর্বের নাটকের আউটডোর স্যুটিং এর সময় খিলগাঁও এলাকায় গত সোমবার এই ঘটনা ঘটে।

1 Comments: